ক্লাউড গেমিং কি? ক্লাউড গেমিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা জানুন সবকিছু

আপনারা সবাই যারা গেমার, তারা কি ক্লাউড গেমিং এর কথা এখনো শুনেছেন? হয়তো সবাই শোনেননি, এই বিরাট প্ল্যাটফর্ম সম্বন্ধে। কিন্তু আজ আমি আপনাদের ক্লাউড গেমিং সম্বন্ধে বিস্তারিত ধারণা দিতে চলেছি। পুরো পোস্ট পড়ে ফেলুন, ২ মিনিট খরচ করে, আশা করি ভালো লাগবে।

ক্লাউড গেমিং কি? ক্লাউড গেমিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা জানুন সবকিছু
ক্লাউড গেমিং কি? ক্লাউড গেমিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা জানুন সবকিছু


বর্তমান ডিজিটাল যুগে, ক্লাউড গেমিং হচ্ছে একটি হাইপার এক্টিভ ফিচার। এই সুবিধার সম্বন্ধে বিস্তারিত শুনলে, আপনারা হয়তো অবাক হয়ে যেতে পারেন বা এই গেমিং সিস্টেমকে অত্যন্ত হাই প্রোফাইল বা যান্ত্রিক ভাবতে পারেন।


আসলেই বিষয়টি সেরকম, আর এই ক্লাউড গেমিং যদি আসলেই সার্বজনীনভাবে চালু হয়, তাহলে আপনারা ভাবতেই পারবেন না যে, কত বিরাট আকারে অনলাইন গেমগুলো খেলা শুরু হবে।


যদি কারও কাছে বড় গেম খেলার উপযোগী ডিভাইস নাও থাকে, তবুও সেখানে সেসব গেমগুলো খেলা সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়া অনেকটাই ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধার মতোই।


যদি আপনি একজন গেমিং জগতের মানুষ হয়ে থাকেন, বা গেম নিয়ে ভালো পরিমাণ জ্ঞান থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই হয়তো ক্লাউড কম্পিউটিং ও ক্লাউড গেমিং এর কথা শুনে থাকবেন।


তবে আবছা ধারণা না রেখে, আজ আপনাদের আমি এ সম্বন্ধে সম্পূর্ন ধারণা ক্লিয়ার করে দিতে চাই। তাহলে আসুন আর দেরি না করে, ক্লাউড গেমিং এর বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যাক। 



ক্লাউড গেমিং আসলে কি? 

ক্লাউড গেমিং হচ্ছে, ভার্চুয়ালি নিজের ডিভাইসে গেমিং কন্ট্রোল করা, এবং প্রকৃতক্ষে সেই গেম অন্য কোনো সার্ভারে খেলার একটি মিশ্রিত অভিজ্ঞতা।


এখানে, আরও পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে, একটি ভিডিও স্ট্রিমের মতো, নিজের ডিভাইসে কোনো গেমের কন্ট্রোল চালানো, আর সেই গেম যখন কোনো অন্য রিমোট ডিভাইসে প্লে হয়, তখন তাকে ক্লাউড গেমিং বলে। 


এই পদ্ধতিতে, গেমিং এর কন্ট্রোল, যেমন- মাউস ক্লিক, কিবোর্ড এর কমান্ড, সবকিছুই নিজের ডিভাইস থেকে দিতে হয়। তবে সেই কন্ট্রোল মূলত করা হয় নিজের ডিভাইস থেকে আর গেম রান হয় শক্তিশালী সার্ভারের কোনো রিমোট ডিভাইসে।


আসলে ক্লাউড গেমিং হলো, নিজের ডিভাইসে বসে অন্যের ডিভাইসে গেম খেলার মতো একটা ব্যাপার। যেমন- আপনারা যদি VPS= Virtual Priavate Server এর নাম শুনে থাকেন, তাহলে ১০০% নিশ্চিত যে আপনারা বুঝে যাবেন ক্লাউড গেমিং কি।


এখন আসুন দেখা যাক, কিভাবে ক্লাউড গেমিং কাজ করে।



ক্লাউড গেমিং কিভাবে কাজ করে?

ক্লাউড গেমিং মূলত একটি ভিডিও স্ট্রিম করার মতোই। এখানে, আপনার ডিভাইসে কোনো প্রকার গেম বা ডাটা ডাউনলোডের প্রয়োজন পড়েনা। শুধুমাত্র ক্লাউড গেমিং সার্ভারে ঢুকেই আপনি ক্লাউড গেমিং করতে পারবেন।


সার্ভারের কোনো একটি ডিভাইসে গেমটি ডাউনলোড করা থাকবে ও যাবতীয় এটাচমেন্ট থাকবে। আপনি শুধু গেমটি ওপেন করবেন এবং গেম খেলার অর্থাৎ কন্ট্রোলিং করার সুযোগ পাবেন। ধরে নিন, আপনার ডিভাইসে ফ্রি ফায়ার গেমটি ইনস্টল করা নেই।


এখন আপনি চাচ্ছেন গেমটি ক্লাউড গেমিংয়ের মাধ্যমে খেলতে। এখন আপনি গেমের সার্ভারে লগইন করে, গেম ওপেন করে খেলা শুরু করতে পারবেন। আপনার ডিভাইসে গেম ডাউনলোড হবেনা, বা গেমের ভার সহ্য করার মতো কোনো এটাচমেন্টও দরকার হবেনা।


শুধুমাত্র গেমের কন্ট্রোলিং আপনি করবেন কিন্তু পুরো গেমের বিনোদনই আপনি উপভোগ করতে পারবেন। আপনি খুব লো কোয়ালিটির ডিভাইসেও এই প্রক্রিয়ায় বড় ও মানসম্মত গেমগুলো খেলতে পারবেন।


যেমন ধরুন, একটি সাধারণ ল্যাপটপেও আপনি পাবজি গেম খেলার সুবিধা পেতে পারবেন ক্লাউড কম্পিউটিং এর কারণে।


মূলত হয়তো গেমটি আপনার পিসিতে ইনস্টলও হওয়ার কথা নয়, কিন্তু আপনি আরাম করেই গেমটি খেলার সুযোগ পাবেন যা অনেকটাই চমকে দেয়ার মতো কথা। 



ক্লাউড গেমিংয়ের সুবিধা:

ক্লাউড গেমিং এর সুবিধাগুলো হয়তো আপনারা সবাই মোটামুটি বুঝে গিয়েছেন। তবে আপনাদের ধারণা পোক্ত করার জন্য, আমি আপনাদের ডিটেইলসে বলছি। আসুন দেখা যাক :


১. দ্রুততম সময়ে গেম খেলার সুবিধা:

যেহেতু বড় গেম খেলার ভার্চুয়াল আনন্দ উপভোগে ক্লাউড গেমিং ব্যবহার হয়, তাই বুঝতেই পারছেন, এসব গেমগুলোর অরিজিনাল সাইজ কেমন হতে পারে।


যদি আপনার নিজের ডিভাইসে এগুলো ডাউনলোড করতে হতো, তাহলে হয়তো ৫ জিবি থেকে ৫০ জিবি ডাটা খরচ হতো এবং আপনার প্রচুর সময়ও ব্যয় হতো।


কিন্তু যেহেতু এসব কিছুই করার প্রয়োজন হয়না, সার্ভারে সবকিছু ডাউনলোড করাই থাকে, তাই এসব ঝামেলা না পোহালেও চলে। খুব সহজেই ও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এখানে গেম খেলার সুযোগ পাওয়া যায়।


আপনাকে শুধু সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিলেই আপনি গেম খেলা শুরু করে দিতে পারবেন।



২. ক্রস প্ল্যাটফর্ম এর সুবিধা:

একটি জিনিস হল, যেহেতু ক্লাউড গেমিংয়ে, গেমটি আপনার ডিভাইসে ডাউনলোড বা রান করানো হচ্ছেনা, তাই জরুরী নয় যে আপনার ডিভাইসের সিস্টেম গেমটির জন্য সাপোর্টেড হতে হবে।


আপনি চাইলে যেকোনো অন্য প্ল্যাটফর্ম ডিভাইস দিয়েও ক্লাউড গেমিংয়ের মজা নিতে পারবেন। যেমন- ম্যাকবুক দিয়ে উইন্ডোজ ভার্সনের ফ্রি ফায়ার গেম খেললেন বা স্মার্ট টিভি দিয়েই খেলে ফেললেন জিটিএ-৫ গেম। 



৩. হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন এর দরকার নেই:

বড় ও মানসম্মত গেমগুলো খেলতে সবসময়ই অনেক ভালো এবং উচ্চ মানসম্পন্ন হার্ডওয়্যার ডিভাইসের দরকার পড়ে।


কিন্তু যেহেতু ক্লাউড গেমিং সার্ভিসে, আসল গেমটি ক্লাউড সার্ভারে রান হচ্ছে আর ডাউনলোড প্রক্রিয়াও সেখানে সমাপ্ত হয়েছে, তাই আপনার হার্ডওয়্যার এর মান, সেখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না।


আপনি যদি সাধারণ মানের কোনো ডিভাইস দিয়েও গেমপ্লে করতে চান, আপনি অনায়াসেই কর‍তে পারবেন। যেমন -ধরুন আপনি ২ জিবি র‍্যামের ল্যাপটপে পাবজি গেম রান করতে চাচ্ছেন।


সাধারনত হয়তো এটা সিস্টেমে চলারই কথা নয়। কিন্তু যেহেতু গেমের ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন ক্লাউড সার্ভারে করা সম্পন্ন, তাই কোনো সমস্যা ছাড়াই আপনি আপনার কম রিসলিউশন এর ডিভাইসেই গেমপ্লে করতে পারবেন সুন্দরভাবে ও সহজেই। 



ক্লাউড গেমিংয়ের অসুবিধাসমূহ:


১. অনেক উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে:

যেহেতু, ক্লাউড গেমিংয়ে একসাথে দুইটি ডিভাইসের সমন্বয়ে গেমপ্লে করা হয়, সেজন্য দুইটি ডিভাইসের দুরত্ব ও দ্বৈত সমন্বয়ে গেমপ্লে করার জন্য প্রয়োজন অত্যাধিক গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট স্পীড।


যদি এমন সুবিধা না থাকে, তাহলে ক্লাউড গেমিং উপভোগ্য হবেনা এবং গেম ল্যাক করা ছাড়াও, অন্যান্য সমস্যায় পড়তে হবে।



২. গেমের ক্র‍্যাক করা সম্ভব নয়:

উচ্চ মানসম্পন্ন গেমগুলো আপনি যখন ক্লাউড গেমিংয়ে খেলবেন, তখন অবশ্যই এগুলো লিগ্যাল নিয়মে খেলতে হবে। অর্থাৎ কোনো পেইড গেম আপনি চাইলেই ফ্রিতে খেলতে পারবেন না।


যদি কোনো বাইরের দেশ হতো, তাহলে এই কাজটি করা যেতো, যেহেতু বিদেশের মানুষজন পাইরেটেড গেম খুব কম খেলে। তবে যেহেতু বাংলাদেশি মানুষজন গেম ক্র‍্যাক করে খেলে অভ্যস্ত, তাই তারা হয়তো চাইবেন পেইড গেমগুলোও ফ্রিতে খেলার।


কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, পেইড গেম কিছুতেই ফ্রিতে ক্লাউড গেমিং করা সম্ভব হয়না, এরজন্য আপনাকে নিশ্চয়ই খরচ করতেই হবে।



উপসংহার

ক্লাউড গেমিং ভবিষ্যৎ যুগের গেমিং অপোরচুনিটি বাড়ানোর জন্য বেশ ভালো একটি মাধ্যম হতে পারে। যেহেতু ডিভাইস বা হার্ডওয়ার লাগছেনা, তাই অনেক প্লেয়াররাই তাদের গেমের নেশা, কম কোয়ালিটি সম্পন্ন ডিভাইসেও মেটাতে পারবে, অর্থাৎ গেমের প্লেয়ার সংখ্যা অনেক বাড়বে।


অর্থাৎ সুযোগ রয়েছে ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আশা করা যায় ভবিষ্যত প্রজন্মের গেমিং রিভলিউশিনকে লিড করবে ক্লাউড গেমিং সিস্টেম। আশা করি আজকের ক্লাউড গেমিং বিষয়ক পোস্ট আপনাদের সবার ভালো লেগেছে।


আপনারা চাইলে আপনাদের আপনজনদের কাছে পোস্টটি শেয়ার করে দিতে পারেন। আপনাদের যেকোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে।


সবাইকে বিদায় ও শুভকামনা জানিয়ে আজকের পোস্ট শেষ করছি। দেখা হবে সামনের কোনো নতুন পোস্টে, নতুন তথ্য নিয়ে।